“মোবাইলে অনলাইনে আয়” করার সঠিক গাইডলাইন
“মোবাইলে অনলাইনে আয়” করার সঠিক গাইডলাইন

মোবাইলে অনলাইনে আয় করার স্বপ্নটি অনেকের কাছে বাস্তব হলেও অধিকাংশ বাংলাদেশীদের কাছে এটা এখনও একটা স্বপ্ন।
কারণ, মোবাইল দিয়ে কাজ করে ইনকাম করতে গিয়ে ৯০% ছাত্র ছাত্রীরা ভুল উপায় বেছে নেয়। মোবাইল দিয়ে যারা আয় করতে চাই তাদের মধ্যে ৯০ হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে থেকেই মোবাইল দিয়ে আয় করার চেষ্টা বেশি করা হয়। এরা চেষ্টা করে ঠিক কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে কাজ না করে ব্যর্থ হয়।

কে বলেছে মোবাইলে অনলাইনে আয় করা যায় না?

অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়, তা জানার পর আমি যখন ধীরে ধীরে কাজ শিখতে লাগলাম। তখন আমি নিজেই চিন্তিত ছিলাম কিভাবে আয় হবে! কিন্তু যখন আমি আমার প্রথম উপার্জন মোবাইল রিচার্জে পেয়েছিলাম। আমি তখন বিশ্বাস করতে পারলাম সত্যি অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়। আমি প্রথম ইনকাম ছিলো ৫৪ টাকা। একটা হুয়াই মোবাইল দিয়ে ইনকাম করে ছিলাম। এটা ইনকাম করার পর আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ছিলো। তখন আমি আরও বেশি শিখতে ও সময় দিতে শুরু করলাম।

মোবাইল দিয়ে আয় করতে যে ভুল গুলো করা যাবেনা:

এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, আমি আগেই বলেছিলাম। মোবাইল দিয়ে আয় করতে ৯০% মানুষ ভুল উপায় বেছে নেয়। ভুল উপায় বেছে না নিয়ে সঠিক পথে আপনি কাজ করলে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। কাজ করে আপনি কখনও ধোঁকা খাবেন না। অবশ্যই আপনি টাকা পাবেন।

এজন্য ভুল উপায় থেকে আপনাকে বের হয়ে আসতে হবে। না হয় ঐ ৯০% এর মতো আপনিও কাজ করে কোনো পেমেন্ট না পেয়ে ব্যর্থ হবেন।

মোবাইলে অনলাইনে আয়
মোবাইলে অনলাইনে আয়

জেনে নেওয়া যাক, মোবাইলে অনলাইনে আয় করতে যে উপায়গুলোতে কাজ করা যাবেনা:

০১. দ্রুত সফলতা পাওয়া:

কাজ শুরু করার সাথে সাথে দ্রুত সফলতা পেতে চাইলে আপনি এখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন না। এটা একটা ধর্য্যের কাজ। সফলতা পেতে ধর্য্য অনেক বড় একটা দক্ষতা। এটা না থাকলে শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে আয় না, কোনো কাজেই সফলতা পাওয়া যাবেনা।

০২. অ্যাপ থেকে লাখ টাকা আয়:

অ্যাপ থেকে লাখ টাকা আয় করার চিন্তা কখনও করবেন না। এমনকি কোনো অ্যাপ থেকে আয় করার চেষ্টা করবেন না। এটা করতে গিয়ে আপনি আপনার সময় ও পরিশ্রম সব নষ্ট করবেন। তবে এমন না যে, অ্যাপ থেকে ইনকাম করা যায় না। অ্যাপ থেকে উপার্জন করা যায়। কিন্তু ৯৫% মোবাইল অ্যাপে কাজ করার পর পেমেন্ট দেওয়া হয়না। বাকি ৫% অ্যাপ পেমেন্ট দিলেও তা উপযুক্ত পেমেন্ট হয় না।

০৩. পেমেন্ট পদ্ধতি:

যেকোনো প্লাটফর্মে কাজ শুরু করার আগে পেমেন্ট পদ্ধতি দেখতে হবে। আপনার সুবিধা মতো টাকা উঠাতে পারলে ঐ প্লাটফর্মে কাজ করবেন। আপনি টাকা উঠাতে পারবেন না এমন কোন জায়গায় কাজ করবেন না।

কোন কোন পেমেন্ট পদ্ধতি থাকলে কাজ করবেন?

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করতে যত কষ্ট হয় না৷ তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয় টাকা হাতে নিতে। তাই কাজ করার আগে পেমেন্ট সুবিধা দেখতে হবে। পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড, বিট কয়েন, বিট কয়েন ক্যাশ, ইথিরাম, ভিসা কার্ড, নেটেলার, ব্যাংক পেমেন্ট ইত্যাদি। এগুলো থাকলে সহজে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে উপার্জিত টাকা উঠানো যাবে।

মোবাইলে অনলাইনে আয় করা যায় এমনকিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক:

সবগুলো উপায় সম্পর্কে একসাথে লেখা আমার পক্ষে কখনও সম্ভব নয়। আমি আমার কাজের বিরতিতে আপনাদের সাহায্য করতে এগুলো লিখি। মোবাইল দিয়ে অনেকগুলো উপায়ে ইনকাম করা যায়। তবে এখানে আমি কয়েকটি প্যাসিভ উপার্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।

০১. ব্লগিং করে আয়:

আমার পছন্দের সেরা তালিকায় ব্লগিং সবার উপরে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্লগিং পছন্দ করি।
আপনিও যদি আমার মতো ব্লগিং করে অনলাইন থেকে প্যাসিভ আয় করতে চান। ব্লগিং হচ্ছে আপনাদের জন্য মোবাইল দিয়ে কাজ করার সহজ মাধ্যম। আপনি সম্পূর্ণ ফ্রি-তে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্লগ লেখার কাজ শুরু করতে পারেন। তবে দ্রুত সফলতা পেতে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মতো খরচ করে। একটা টপ-লেভেল ডোমেইন ব্যবহার করতে পারেন।

০২. ভিডিও ব্লগিং:

ভিডিও ব্লগিং সম্পর্কে আপনি যদি না জেনে থাকেন, তাহলে ইউটিউবে গিয়ে সার্চ করুন। মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ব্লগিং অসাধারণ একটা মজার কাজ। ভিডিও ব্লগিং করে মাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খুব সহজে আয় করা সম্ভব। “Video Blogging” শুরু করার সাথে সাথে আপনি এখান থেকে আয় করার চিন্তা করতে পারবেন না। আপনাকে আগে আপনার চ্যানেল দাঁড় করাতে হবে। ভিডিও ব্লগিং করার জন্য অনেকগুলো প্লাটফর্ম রয়েছে। তবে ইউটিউব এবং ফেসবুক হচ্ছে সেরা প্লাটফর্ম।

০৩. সার্ভে করে মোবাইলে অনলাইনে আয়:

অনলাইনে মোবাইল দিয়ে সার্ভে করে বাংলাদেশ থেকে আয় করছে এমন ছেলে মেয়ে লক্ষ লক্ষ আছে৷ সার্ভে করে আয় করতে আপনাকে একটু চালাক হতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যেকোনো সাইটে সার্ভে জব করা যায় না। তাই এক্ষেত্রে কিছু টুলস এবং টেকনিক প্রয়োগ করে কাজ করতে হবে। সার্ভে জব করার জন্য ভিপিএন, ভিপিএস, আইপি ইত্যাদি টুলস গুলো ব্যবহার করতে হবে। এগুলো ফ্রি-তে পাওয়া যায় তবে অধিকাংশ কাজ করে না। তাই টাকা আয় করতে চাইলে প্রিমিয়াম টুলস ব্যবহার করবেন।

০৪. ভিডিও অ্যাড দেখে আয়:

ইন্টারনেট জগতে অনেকগুলো ওয়েবসাইট আছে। যারা ভিডিও দেখার জন্য সামান্য টাকা পেমেন্ট করে থাকেন। ভিডিও দেখে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব না। তবে মাস থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো আয় করা সম্ভব।

অনেকগুলো অ্যাড ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন দেখে আয় করতে সুযোগ দেয়। তার মধ্যে আমার পছন্দের একটা সাইট হচ্ছে: Wintub | এখানে ২৪ সেকেন্ডের ৫টি ভিডিও প্রতিদিন দেখতে পারবেন। ২৪ ঘন্টা পর পর ভিডিওগুলো দেখা যায়। ৫টি ভিডিও দেখে দিনে ১ থেকে ২ ডলার ইনকাম হবে।

০৫. ইনভেস্টমেন্ট সাইট থেকে ইনকাম:

কথায় আছে, “বুদ্ধি থাকলে ঘর জামাই থাকা লাগেনা।” ঠিক আপনি এখানে নিজের টাকা ইনভেস্ট না করেও আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই একটু বেশি সময় দিতে হবে আয় শুরু করতে। আপনি যদি কিছু বন্ধুদের রেফার করাতে পারেন, তাহলে কাজটা আপনার জন্য আরও সহজ হয়ে যাবে। একটা সাইটে ৫ থেকে ১০ জন বন্ধুকে আপনার রেফারে যুক্ত করতে পারলে আপনি ইনভেস্ট না করেও আয় করতে পারবেন। এমন অনেকগুলো সাইট আপনি গুগলে সার্চ করলে পাবেন।

আজকের সমাপ্তি বার্তা:

আমি আপনাদের সাহায্য করতে নিয়মিত অনলাইন আর্নিং কৌশলগুলো নিয়ে ব্লগ লিখে যাচ্ছি। আশাকরি, এগুলো আপনাদের জীবনের গতি পরিবর্তন করতে ভূমিকা রাখবে। আপনাদের যেকোনো অজানা প্রশ্ন আমাদের করতে পারেন। যেকোনো বিষয়ে জানার জন্য নিচের কমেন্ট বাক্সটা ব্যবহার করুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply