ই কমার্স ব্যবসার বিক্রয় বৃদ্ধির ৭টি মার্কেটিং কৌশল
ই কমার্স ব্যবসার বিক্রয় বৃদ্ধির ৭টি মার্কেটিং কৌশল

যেকোনো ব্যবসার প্রধান লক্ষ হচ্ছে বিক্রয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা। ই কমার্স ব্যবসার লক্ষ্যও এর থেকে ভিন্ন নয়। দ্যা ডেইলি স্টার অনলাইন নিউজে প্রকাশিত একটি নিউজে বলা হয়েছে আগামী ৪ বছরে বাংলাদেশে ই-কমার্সের মাধ্যমে ৩ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য-সেবা বিক্রয় হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুতরাং আপনি বুঝতেই পারছেন ই কমার্স ব্যবসার ডিমান্ড কেমন হতে যাচ্ছে।

প্রতিটি ব্যবসার বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য কাজ করে মার্কেটিং। এবং বিশেষ করে ই কমার্স ব্যবসার জন্য মার্কেটিং বিরাট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বলা যায় মার্কেটিং কৌশল ছাড়া ই-কমার্সের কোন মূল্য নেই। সুতরাং মার্কেটিং কৌশল হচ্ছে অনলাইন ব্যবসার প্রাণ। আপনি যদি একজন ছোট উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই হারে হারে টের পাচ্ছেন মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব। প্রথম দিকে আপনাকে বাজারে পরিচিতির জন্য অনেককিছু করতে হবে।

এই সময় বিক্রি করার চিন্তা বাদ দিতে হবে। আগে পরিচিতি বৃদ্ধি করতে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। আপনাকে যদি ক্রেতা চিনতে না পারে তাহলে কোন বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে আপনার কাছ থেকে তারা পণ্য অর্ডার করবে! আপনার পরিচিতি মানে এই নয় যে, আপনাকে গিয়ে সবাইকে আপনার নাম বলতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে:

  • আপনাকে কেন মানুষ বিশ্বাস করবে?
  • কেন আপনার পণ্য ক্রয় করবে?
  • আপনার পণ্য তাদের কি কি সমস্যার সমাধান করতে পারে? ইত্যাদি।

আজকে আমি আপনার ইলেকট্রনিক বিজনেসের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য এমন ৭টি কৌশল শেয়ার করতে যাচ্ছি।

যে কৌশল গুলো আগামীর সময়ে আপনার অনলাইন ব্যবসায় সফলতার জন্য অত্যেন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন উদ্যোক্তার জন্য মার্কেটিংয়ের জ্ঞান অর্জন করা মৌলিক বিষয়। আপনি যদি নিজের পণ্য নিজেই অন্যের কাছে বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে অন্যরা কিভাবে আপনার বিক্রি করবে!

সুতরাং, মনে রাখতে হবে। যদি আপনার পণ্য আপনি নিজেই অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারেন। তাহলে আপনার কোম্পানির অন্যান্য কর্মিরা সহজেই আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ই কমার্স ব্যবসার ৭টি কৌশল:

একটি “আনইউনিক” প্রোডাক্ট নিশ নিয়ে কাজ শুরু করুণ –

আমাদের নতুন ই-উদ্যোক্তাদের একটা বড় ভুল হচ্ছে একসাথে একাধিক নিশ বা পণ্য নিয়ে কাজ করা। একসাথে একাধিক নিশ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সফলতার পরিবর্তে ব্যর্থতা ঘিরে থাকে। ই কমার্স ব্যবসার প্রধান শর্ত হচ্ছে পরিচিতি। ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি পেতে অনেক সময় নিয়ে কাজ করতে হয়।
শুধুমাত্র ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রোমোশন ক্যাম্পেইন চালাইলে যে বিক্রি বৃদ্ধি পাবে তা নয়।

সবসময় যদি প্রোমোশনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করতে হয়, তাহলে প্রফিটের টাকা তো মার্কেটিংয়ের জন্য দিয়ে দিতে হবে। ➡আপনি কিভাবে প্রফিট করবেন? অনলাইন বিজনেস নয়, যেকোনো বিজনেসের জন্য পরিচিতি বৃদ্ধি করা কোম্পানির প্রথম কাজ।

আপনাকে বা আপনার প্রতিষ্ঠানকে যদি কেউ না চিনে তাহলে কিভাবে ক্রেতা আপনার পণ্য ক্রয় করবে? অনলাইনের ক্ষেত্রে বিক্রি বৃদ্ধির জন্য আপনার ই-শপের পরিচয় বাড়াতে হবে।

কেন একটি নিশ নিয়ে কাজ শুরু করার পরামর্শ দিচ্ছি?

কারণ, আপনার কোম্পানি পরিচয় বাড়াতে এটি জাদুর মতো কাজ করবে৷ মনে করুন, আপনাকে আপনার মা চায়ের দোকানে নাস্তার জন্য পাঠাচ্ছে। যাওয়ার সময় আপনাকে কেউ প্রশ্ন করলো কোথায় যাচ্ছেন? ➡তখন আপনি কি উত্তর দিবেন? নিশ্চয়ই চায়ের দোকানে যাচ্ছেন বলবেন।

  • আবার আপনি মুদির দোকানে যাওয়ার সময় কেউ আপনাকে একই প্রশ্ন করলে কি বলবেন?
  • নিশ্চয়ই মুদির দোকানে। কাপড়ের দোকানে গেলে কাপড়ের দোকানে বলবেন। কথা হচ্ছে, আপনি যাচ্ছেন নাস্তার জন্য, তাহলে চায়ের দোকানে কেন বললেন? আপনি যাচ্ছেন মুদির দোকানে চালের জন্য কিন্তু মুদির দোকান কেন বললেন?

মূলত, এগুলো ছিল তাদের বিজনেস পরিচিতির মার্কেটিং কৌশল। আপনি মানেন আর না মানেন এটাই সত্যি এটাই বাস্তব।

কেননা, তারা যখন বিজনেসটা শুরু করতো তখন চায়ের দোকানে চা নিয়ে দোকানের যাত্রা শুরু হতো। কারণ, বেশি মূলধন সহায়তা না থাকায় মানুষ ছোট করে সহজে লাভের জন্য চায়ের দোকান দিয়ে বসতো। তারা চায়ের দোকান দিলেও এখানে পাবেন আপনি হাজার রকমের খাবার। কিন্তু তাও আপনি বলবেন চায়ের দোকানে যাচ্ছি নাস্তা করার জন্য। কারণ, তারা আপনাকে এমন একটা পণ্যের মাধ্যমে গ্রাস করেছে।

চায়ের জন্য আপনি দোকানে গেলেই চায়ের সাথে অন্তত একটা বিস্কুট আপনি নিবেন। কিন্তু আপনি গেছেন চায়ের জন্য। ঠিক একইভাবে আপনি যখন একটি নিশ নিয়ে কাজ করবেন তখন ক্রেতাদের মনে আপনার শপের কথা বেশি মনে থাকবে।

যেমন: ধরুন আপনি মেয়েদের পিরিয়ডের সময় প্রয়োজনীয় জিনিস বা মেডিসিন সেবা নিয়ে কাজ করছেন।

তখন সকল মেয়েদের এই সমস্যা হলেই মনে পড়বে আপনার শপের কথা। মানে আপনি এমন একটা কৌশল প্রয়োগ করলেন যেন সকল মেয়েরা আপনার শপের কথা মনে না রাখতে চাইলেও মনে রাখতে বাধ্য হয়। এবার আপনি মেয়েদের পিরিয়ড সমস্যার সমাধান নিয়ে সবার কাছে পরিচিত। এখন আপনি কি করলেন পরের মাসে একটা মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় মেকআপ বক্স শপে যুক্ত করলেন৷ এবং এর পরের মাসে একটা মেহেদী আইটেম যুক্ত করলেন। মানে আস্তে আস্তে আপনার শপের পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে আপনার বিক্রয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ➡কিন্তু পরিচিত হয়েছিলেন কি দিয়ে মনে আছে? অথচ এখন আপনার হাজার রকমের পণ্য ও সেবা রয়েছে।

এটাই হচ্ছে মার্কেটিং কৌশল। আপনি ভালো জানেন যে আপুরা যা দেখে তা নিতে চাই৷👌 ভাইয়ার কাছে টাকা থাকুন আর না থাকুন।😜পিরিয়ড সমাধান নিতে আসলে তারা আপনার শপে আরও একাধিক লোভনীয় পণ্যের আইটেম দেখতে পাবে। এগুলো অবশ্যই তাদের আকর্ষন করার জন্য যথেষ্ট। এই সমস্যার সমাধানের পর একজন আপু অন্য একটা পণ্য অর্ডার করতেই পারে।

আনইউনিক মার্কেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করুণ:

ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য অন্যদের থেকে ভিন্নভাবে মার্কেটিং করুণ। আপনার প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের জন্য আনইউনিক একটা ট্যাগ লাইল বা টাইটেল যুক্ত করুণ।

  • কেন ক্রেতা আপনার কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করবে?
  • আপনি কেন অন্যদের থেকে আনইউনিক?

তা বুঝানোর জন্য আপনার মার্কেটিং পদ্ধতিকে উন্নত করতে হবে।

মানে অন্যদের থেকে একটু আলাদা কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। কেননা এটা আপনার ক্রেতাদের উৎসাহিত করবে। এবং আপনার সুন্দর বুঝানোর ক্ষমতা ক্রেতাদের আপনার পণ্যের কথা মনে রাখতে সাহায্য করবে।

একটা সহজ ই কমার্স স্টোর তৈরি করুণ :

আমরা ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে যেটা ভুল করি, তা হচ্ছে অতিরিক্ত কালার ও একাধিক সেকশন দিয়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন করা। এটাও আপনার বিক্রির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। একটা সিম্পল ও স্মার্ট ডিজাইন করা ওয়েবসাইটও আপনার বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য ভূমিকা রাখে।

সহজ ই কমার্স স্টোর তৈরি করুণ
সহজ ই কমার্স স্টোর তৈরি করুণ

কারণ, একাধিক জটিল টুলস ব্যবহার করে অনলাইন শপ তৈরি করলে ক্রেতা পণ্য অর্ডার করতে Comfortable অনুভব করে না।

বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাড ক্যাম্পেইন চালু করুণ:

ব্যবসা করবেন অথচ বিনিয়োগ করবেন না তা কখনও হয়না। ই-কমার্স ব্যবসার জন্য অ্যাড ক্যাম্পেইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিটি অ্যাড ক্যাম্পেইনের জন্য আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন করে অপটিমাইজেশন করতে হবে। বুঝতে হবে কোন কিওয়ার্ড গুলোতে বেশি বিক্রি হচ্ছে। সমসময় একই প্লাটফর্ম ব্যবহার না করে ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মে পণ্যের প্রচারণা করুণ।

আমাদের একটা সমস্যা হচ্ছে আমরা মার্কেটিংয়ের জন্য ফেসবুক ছাড়া আর অন্য কোন প্লাটফর্ম দেখি না। ব্যবসার জন্য ফেসবুকের মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ থাকর কারণে   আরও প্রায় ৬০% ক্রেতাদের হাত ছাড়া করতে হয়।

একটি সুন্দর স্বাগতম মেসেজ তৈরি করুণ:

ক্রেতা যখন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট ভিজিট করবে, তখন ক্রেতাকে একটা স্বাগত মেসেজ দেন। যেমন: সম্মানিত ক্রেতা বন্ধু! আমাদের শপে আপনাকে স্বাগতম জানাই৷ আমাদের কাছ থেকে আপনার প্রথম অর্ডারটির সম্মান গ্রহণ করবেন। ইত্যাদি করমের মেসেজ আপনি দেখাতে পারেন। এটার মাধ্যমে ক্রেতাকে পণ্য ক্রয় করতে সম্মানের সাথে বাধ্য করা যায়। এমন একটা মেসেজ পেলে ক্রেতা আপনার কাছ থেকে পণ্য অর্ডার করার চান্স ৭০% বৃদ্ধি পাবে।

ক্রেতাকে ফ্রি শিপিং অফার প্রধান করুণ:

পণ্য অর্ডার করার জন্য আপনার ক্লায়েন্টসদের ফ্রি শিপিং সুবিধা দিতে পারেন। গ্রাহক ফ্রি শব্দটা শুনতে বেশ ভালোবাসে। এজন্য আপনি ফ্রি পণ্য ডেলিভারি অফার দিয়ে ক্রেতাদের আরও বেশি পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করতে পারেন। ৫০০ টাকার বেশি পণ্য অর্ডার করলে ফ্রি ডেলিভারি বা প্রথম অর্ডারে ফ্রী ডেলিভারি এমন সব অপার দিতে পারেন।

আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করুণ:

ই কমার্স ব্যবসার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে ই-কমার্সের উন্নয়ন। আপনি একবার কোন রকম একটা শপ তৈরি করেছেন। তাতেই আপনার কাজ শেষ নয়। গ্রাহকদের চাহিদা ও পছন্দ নিয়ে আপনাকে পণ্যের পাশাপাশি আপনার শপের উন্নয়নও বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে অনেক কার্যকর কিছু এসইও টুলস রয়েছে। যেগুলো ব্যবহার করে ক্রেতাদের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যাওয়া যায়।

এই হলো ই কমার্স ব্যবসার বিক্রয় বৃদ্ধির ৭টি কার্যকর কৌশল। আপনি আমার শেয়ার করা এই ৭ পদ্ধতি আপনার ব্যবসায় প্রয়োগ করুন। ইনশাআল্লাহ – আপনার ব্যবসা বর্তমানের তুলনায় আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply