ইউটিউব ভিডিও এসইও করার পদ্ধতি এবং ভিউ বৃদ্ধি
ইউটিউব ভিডিও এসইও করার পদ্ধতি এবং ভিউ বৃদ্ধি

ইউটিউব ভিডিও ভিউ নিয়ে কম বেশি সবাই চিন্তিত থাকেন। কারণ, ভিউ বেশি হলেই ইনকাম বেশি হয়। তাই ইউটিউব ভিডিও এসইও করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইউটিউব ভিডিও কিভাবে এসইও করবেন?

শুধুমাত্র ভিডিও রেকর্ড করে আপলোড করলেই আপনার “Video Rank” করবে তা কিন্তু নয়। এটার জন্য অনেকগুলো কৌশল অনুসরণ করতে হয়। যদি ভিডিও আপলোড করেই অনেক টাকা কামাই করা যেতো, তাহলে সবাই চ্যানেল করে ভিডিও আপলোড করতো।

জেনে নেওয়া যাক কিছু কৌশল!

ইউটিউব ভিডিও এসইও করার পদ্ধতি এবং ভিউ বৃদ্ধি করার কৌশল
Image source: Pixabay.com

আমি যথাসম্ভব সহজে বুঝানোর চেষ্টা করবো। এর পরেও যাদের প্রশ্ন থাকবে। আপনারা নিচের কমেন্ট বাক্সে জানাতে পারেন। অথবা সরাসরি মেসেঞ্জারে লাইভ স্যাট করতে পারেন।

০১. ইউটিউব ভিডিও টাইটেল কাস্টমাইজ করা:

আপনি হয়তো ভাবছেন সুন্দর একটা টাইটেল লিখে দিলে তো হলো৷ আবার কাস্টমাইজ করার প্রয়োজন কি। আসলে বিষয়টি তা নয়। আপনার ভিডিও মূলত বেশি ভিউ হওয়ার পিছনে টাইটেলের ভূমিকা অপরিসীম। এজন্য টাইটেল কাস্টমাইজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি এটা জানেন টাইটেলের উপরে নির্ভর করে আপনার ইউটিউব ইনকাম? হ্যাঁ, আপনি ঠিক শুনছেন। শুধু ভিউ হলেও টাকা আয় হয় না। টাকা পাওয়াটা নির্ভর করে সিটিআর (ক্লিক থ্রো রেট) এর উপর। তবে সিটিআর না থাকলেও কিছু টাকা আয় হয় ইম্প্রেশনের উপর নির্ভর করে।

সঠিক নিয়মে টাইটেল ব্যবহার করার নিয়ম:

  • সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করা
  • অপ্রয়োজনীয় কোনো কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা
  • কমপক্ষে ৫ শব্দের টাইটেল দেওয়া
  • ৬০ অক্ষরের মধ্যে টাইটেল দিতে পারলে ভালো হয়
  • প্রধান কিওয়ার্ড টাইটেলের শুরুতে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন
  • টাইটেলে হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করবেননা।

০২. ডেসক্রিপশন লিখা:

আমরা অধিকাংশ ইউটিউবাররা ডেসক্রিপশন লিখাটা অনেক বেশি কষ্টের মনে করি। অথচ টাইটেলের পরে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে ডেসক্রিপশন। প্রতিটি ভিডিওতে কমপক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ শব্দের একটা ডেসক্রিপশন লিখতে চেষ্টা করুন। অবশ্যই ডেসক্রিপশনের সাথে প্রধান কিওয়ার্ড এবং কয়েকটি সহকারী কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে ভুল করবেন না।

০৩. ইউটিউব ভিডিও ট্যাগ রিসার্চ করুন:

একটা কথা না বললেই নয়। আমরা সকল ইউটিউবাররা ট্যাগ নিয়ে ব্যস্ত থাকি৷ আমরা মনে করি কি বেশি ট্যাগ ব্যবহার করলেই “Video Rank” করবে। কিন্তু ইউটিউব ভিডিও ভিউ হওয়ার জন্য ট্যাগ এতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এগুলো অবশ্যই আমাদের সাহায্য করে।

সহজ কথায় আমি এটা বুঝাতে চাচ্ছি। তরকারিতে সঠিক পরিমাণে সবকিছু দিতে হবে, তাহলে রান্নার করা তরকারির স্বাদ আসবে। শুধুমাত্র মসলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হবেনা। সঠিক পরিমাণে লবণ দেওয়াটাও বাধ্যতামূলক।

০৪. অডিয়েন্স রিটেনশন:

খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সবকিছু সঠিকভাবে দেওয়া আছে। কিন্তু অডিয়েন্স রিটেনশন নেই। তাহলে কখনও আপনার ভিডিও Rank করবেনা। অডিয়েন্স রিটেনশন বাড়ানোর জন্য অবশ্যই আপনার ভিডিও তথ্যবহূল এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন হতে হবে। আপনার অডিয়েন্সরা ভিডিও কত সময় ধরে দেখছে তার উপর নির্ভর করে অডিয়েন্স রিটেনশন মাপা হয়।

০৫. ভিডিও মেটা টাইটেল ও মেটা ট্যাগ ব্যবহার করুন:

ইউটিউবের জন্য এগুলো হচ্ছে অ্যাডভান্স এসইও। এগুলো আপনি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে অবশ্যই আপনার ভিডিও ভিউ হবে।

কিভাবে মেটা টাইটেল ও মেটা ট্যাগ ব্যবহার করবেন?

এটা নিয়ে বিস্তারিত লিখবো না। কারণ এটা হচ্ছে একটা প্রাকটিকাল বিষয়। হাতে কলমে কাজটা করে দেখাতে পারলে ভালো হবে। আপনাদের জন্য একটা ভিডিউ নিচে যুক্ত করছি।

আমি এবিষয়ে ৩ থেকে ৪টি টিউটোরিয়ালস তৈরি করতে চেষ্টা করবো। ভিডিও আপলোড করলে নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন।

ভিডিও এর মাধ্যমে আপনাদের বেসিক ধারণা দিতে চেষ্টা করছি।

এখানে ভিডিও দেখে বিস্তারিত আপনারা সবাই বুঝতে পারবেন। তবে অবশ্যই যাদের এবিষয়ে জ্ঞান রয়েছে তারা খুব সহজে বুঝতে পারবেন।

০৬. ইউটিউব ভিডিও থাম্বানাইল যুক্ত করা:

অধিকাংশ ভিউয়াররা থাম্বানাইল দেখে ভিডিওতে ক্লিক করে। আপনি অডিয়েন্সদের আকর্ষণ করে এমন একটা প্রফেশনাল থাম্বানাইল যুক্ত করেন। আপনার ভিডিওতে অনেক বেশি ক্লিক পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। থাম্বানাইলেও আপনি ভিডিওর মতো মেটা টাইটেল ও ট্যাগ যুক্ত করতে ভুলবেন না। এগুলো আপনার ভিডিওটি কিসের উপর তৈরি করা হয়েছে তা বুঝতে ইউটিউব এলগরিদমকে সাহায্য করে।

০৭. ব্যাকলিঙ্ক বিতরণ করা:

আপনার ইউটিউব ভিডিও টপিকের সাথে মিল রেখে অন্য যেকোনো একটা সাইটের লিঙ্ক আপনার ডেসক্রিপশনে যুক্ত করুন। গুগল ও ইউটিউব এলগরিদম এগুলো পড়তে পারেন। ভিডিও কন্টেন্টের সাথে মিল রেখে একটি তথ্যবহূল লিংক যুক্ত করাকে ব্যাকলিংক শেয়ারিং বলে।

ইউটিউব ভিডিও ভিউ সম্পর্কে সমাপ্তি বার্তা:

আমি খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করতে চেষ্টা করেছি। আপনি যদি আজকের দেওয়া ৭টি কৌশল নিয়মিত সঠিকভাবে প্রয়োগ করেন। অবশ্যই আপনি আপনার ইউটিউব ক্যারিয়ারে দ্রুত সফলতা পাবেন।

নিচের বাক্সে আপনার মতামত লিখে জানান।